বিশেষ অর্থনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও গ্লোবাল মার্কেট এনালিস্ট)
রোম/ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ কেবল বোমাবর্ষণ আর রক্তপাতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন বিশ্ববাসীর রান্নাঘরে হানা দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এই ঊর্ধ্বগতি প্রমাণ করছে যে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭০-এর দশকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছিল।
বিবর্তনের ধারা: ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই। কিন্তু ২০২৬ সালে এসেও আমরা দেখছি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা (যেমন: হরমুজ প্রণালি সংকট বা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ) কীভাবে মানুষের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তুলনা: বাংলাদেশের স্বাধীনতার (১৯৭১) পর ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ ছিল বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, যখন দেশে স্বর্ণের দাম রেকর্ড আড়াই লাখ টাকা এবং জ্বালানি তেল আমদানিতে বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে, তখন এফএও-র এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় চিন্তার কারণ।
এফএও-র প্রতিবেদনে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো—পাম অয়েলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এটি সয়াবিন তেলের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের প্রভাব: অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলো (যেমন: ব্রাজিল) চিনি উৎপাদনের চেয়ে আখ থেকে ‘ইথানল’ বা জৈব জ্বালানি তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমছে এবং দাম বাড়ছে।
বিশ্লেষণ: এটি একটি ‘চেইন রিঅ্যাকশন’। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তেলের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় (বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে), যার ফলে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং চিনি থেকে শুরু করে মাংস—সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।
মাংসের মূল্যসূচক গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এর মানে হলো, বিশ্বজুড়ে পশু খাদ্যের দামও জ্বালানি ও শস্যের দামের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে যখন এমনিতেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির, তখন বৈশ্বিক এই ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি স্থানীয় বাজারে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমাদের ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম আরও বাড়িয়ে দেন।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: এফএও-র এই তথ্য কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়। যখন জ্বালানি তেলের দাম স্বর্ণের দামের মতো পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, তখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই সংকট প্রমাণ করে যে, বিশ্ব এখন ‘ফুড পলিটিক্স’ বা খাদ্য রাজনীতির এক নতুন মারপ্যাঁচে আটকা পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে এই ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি আগামী মাসে দ্বিগুণ হতে পারে।
| পণ্য খাত | মূল্যসূচক (পয়েন্ট) | মাসিক পরিবর্তন (%) | বাৎসরিক পরিবর্তন (%) |
| সামগ্রিক খাদ্যমূল্য | ১২৫.৮ (গড়ে) | +২.৪% | +১% |
| শস্য (Cereals) | ১১০.৪ | +১.৫% | +০.৬% |
| ভোজ্যতেল | ১৮৩.১ | +৫.১% | +১৩.২% |
| মাংস | ১২৭.৭ | +১% | +৮% |
| চিনি | রেকর্ড বৃদ্ধি | ঊর্ধ্বমুখী চাপ | উচ্চ ঝুঁকি |
১. FAO (Food and Agriculture Organization): Monthly Food Price Index Report - March 2026.
২. Anadolu Agency: Global report on UN food price alerts.
৩. World Bank: Impact of crude oil prices on ethanol production and sugar markets.
৪. International Food Policy Research Institute (IFPRI): Analysis of Middle East conflict on global supply chains.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |